ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরের প্রথম পর্যায়ে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে আবুধাবিতে পৌঁছান রুবিও। সেখানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। পরে তার কুয়েত ও বাহরাইন সফরের কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) নেতাদের বৈঠকেও অংশ নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
রুবিও জানান, উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়েও আলোচনা হবে। তবে ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সম্ভাব্য টোল আরোপের প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো দেশ এককভাবে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না।
তিনি বলেন, “এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন এ ধরনের পদক্ষেপের অনুমতি দেয় না।” গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটিই কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার প্রথম সফর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সমঝোতা উপসাগরীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। ফলে আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ কমাতে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে ওয়াশিংটন নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের সময় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
কালের দাবি ডেস্ক