বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি ও সরকারের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ সহজ শর্তের (কনসেশনাল) ঋণ এবং বাকি ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ অপেক্ষাকৃত কঠিন শর্তের (নন-কনসেশনাল) ঋণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগের মতো সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন ঋণ গ্রহণে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রত্যাশিত সুফল গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল হালনাগাদের কাজ চলছে এবং ঋণের টেকসইতা মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিরূপণ করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্যও একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কালের দাবি ডেস্ক