ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে সংসদে নতুন বিল: সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে সংসদে নতুন বিল: সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা ছবির ক্যাপশন: জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের নতুন বিল উত্থাপন
ad728

দেশে সব ধরনের জুয়া, বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় এই বিলে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে এই আধুনিক আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধের ধরন ও ১৪ মাত্রার শাস্তি

প্রস্তাবিত নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শাস্তির প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সাধারণ জুয়া: কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়া খেললে সাজা বেড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

  • অনলাইন বেটিং: অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। এতে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিং: খেলাধুলায় ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৭ বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কেন এই নতুন আইন?

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দী আগের পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। এ ছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার জোরালো প্রস্তাব এসেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ভিপিএন (VPN), ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার (Money Laundering) আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জি–৭ সম্মেলনের ছবি বিতর্কে ট্রাম্প-মেলোনি সম্পর্কে নতুন উত্ত

জি–৭ সম্মেলনের ছবি বিতর্কে ট্রাম্প-মেলোনি সম্পর্কে নতুন উত্ত