
মৃত্যুর এক বছরের বেশি সময় পর আবারও সিনেমার পর্দায় দেখা যাবে হলিউড অভিনেতা ভ্যাল কিলমারকে। তবে এবার তিনি ফিরছেন না কোনো নতুন শুটিংয়ের মাধ্যমে, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি ডিজিটাল সংস্করণ হিসেবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলিউডে প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও শিল্পীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ‘অ্যাজ ডিপ অ্যাজ দ্য গ্রেভ’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জীবিত অবস্থায় চুক্তিবদ্ধ ছিলেন ভ্যাল কিলমার। কিন্তু গলার ক্যানসারজনিত জটিলতার কারণে তিনি শুটিংয়ে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৫ সালে তার মৃত্যুর পর নির্মাতারা চরিত্রটি বাদ না দিয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে পর্দায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।
চলচ্চিত্রটিতে ‘ফাদার ফিনটান’ চরিত্রে দেখা যাবে কিলমারকে। তার পুরোনো ভিডিও, স্থিরচিত্র এবং কণ্ঠস্বরের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল অবয়ব তৈরি করা হয়েছে। ফলে দর্শক যে অভিনয় দেখবেন, তা নতুন করে ধারণ করা কোনো দৃশ্য নয়; বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনর্নির্মিত একটি উপস্থাপনা।
নির্মাতা পক্ষ জানিয়েছে, এআই ব্যবহারের আগে ভ্যাল কিলমারের পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এটি অভিনেতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রচেষ্টা।
তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শিল্পী, প্রযুক্তি বিশ্লেষক এবং শ্রম অধিকারকর্মী। তাদের মতে, মৃত শিল্পীদের ডিজিটালভাবে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রবণতা ভবিষ্যতে অভিনয়শিল্পীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সৃজনশীল অধিকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতাদের মুখাবয়ব, কণ্ঠস্বর ও অভিনয়শৈলীর মালিকানা এবং মৃত্যুর পর এসব ব্যবহারের অধিকার কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। অন্যথায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিনোদন শিল্পে জটিল আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ভ্যাল কিলমারের ডিজিটাল প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি চলচ্চিত্রের ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতের সিনেমা শিল্পে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।