
সারা দেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় একযোগে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এবার অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও বিতরণ, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিসহ প্রতিটি বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ করা হবে। তবে কোনো পরীক্ষার কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিন পুলিশি নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে এবং নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে।
চলতি বছর সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর ক্যামেরার তথ্য, ডিভিআর ও নেটওয়ার্ক সংযোগের তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক অনলাইন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম মনিটর করা হবে।
কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর পাওয়া গেলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এছাড়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নকল, প্রশ্নফাঁস কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রিক যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও গুজব কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।