
টানা ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্দরের হেফাজতে থাকা পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা এ দাবি জানান। চিঠিতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর শীর্ষ নেতারা স্বাক্ষর করেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতায় পণ্য খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিকৃত কাঁচামাল, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য, তুলা, সুতা, কাপড় এবং আর্দ্রতা-সংবেদনশীল বিভিন্ন পণ্যের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের চালান বিলম্বিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পানি ঢুকে পণ্য ও কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগকে 'অ্যাক্ট অব গড' উল্লেখ করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির দায় অস্বীকার করে।
তবে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, যদি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে পণ্যের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ছাড়া বন্দরে আটকে থাকা পণ্যের ড্যামারেজ, ডিটেনশন, স্টোরেজ, পোর্ট রেন্ট ও অন্যান্য চার্জ সাময়িকভাবে মওকুফ বা কমানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে চাপে পড়েছে। তাই বাণিজ্য সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সমন্বিত আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।