
বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামীকাল (১৫ জুলাই) রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বকাপে এটি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ মুখোমুখি। আগের পাঁচ দেখায় ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুবার জয় পেয়েছে। তবে নকআউট পর্বের ইতিহাস ভিন্ন গল্প বলছে। তিনটি নকআউট লড়াইয়ের মধ্যে দুটিতেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয় ১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারায় ইংল্যান্ড। চার বছর পর ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড।
দুই দলের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরবর্তী অসাধারণ একক নৈপুণ্যে করা গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জেতে ম্যারাডোনার দল।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে দুই দল ২-২ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
সর্বশেষ ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। সেটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুই দলের শেষ লড়াই।
এবারের সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং দুই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ও। ইতিহাসে ইংল্যান্ড সামান্য এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার সাফল্য ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
| বছর | পর্ব | ফলাফল |
|---|---|---|
| ১৯৬২ | গ্রুপ পর্ব | ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা |
| ১৯৬৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা |
| ১৯৮৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড |
| ১৯৯৮ | শেষ ষোলো | ২-২ (টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা ৪-৩) |
| ২০০২ | গ্রুপ পর্ব | ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা |