
নিজস্ব প্রতিবেদক | কালের দাবি
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করলেও দুই বছর পরও তাদের বাঁচার মতো অধিকার নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, "ছাত্রদের মতো শ্রমিকরা ক্ষমতার ভাগ দাবি করেনি, তারা শুধু অধিকার ও মর্যাদা চেয়েছে। কিন্তু সেই প্রত্যাশাও এখনো পূরণ হয়নি।"
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে "২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি" শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি।
সাইফুল হক বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্যও অবিলম্বে একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যূনতম মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না। শ্রমিককে বাঁচার মতো মজুরি দেওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি উৎপাদন ও অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
শ্রমিকদের আন্দোলনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শ্রমিকের বাঁচার আন্দোলন কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র নয়। নতুন বিএনপি সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিকার অর্থেই শ্রমিকবান্ধব সরকার।"
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের ঐক্য ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির নেতা ও সংসদ সদস্য সামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশে প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। তাদের অধিকার নিশ্চিত না হলে গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না। তিনি সংসদের ভেতরেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভোটাধিকার ফিরে এলেও শ্রমিকদের জীবনে বৈষম্য ও শোষণ বেড়েছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন, যার বড় অংশই নারী শ্রমিক। তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া গণতন্ত্র ও গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূর্ণতা পাবে না।
সভায় শ্রমিক নেতা মাহমুদ হোসেন শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রমিক শহীদ বদিউজ্জামান, আবদুল লতিফসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।