
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথের আগে বঙ্গভবনের সামরিক সচিব ও অন্যান্য সচিব নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করেন। জাতীয় সংগীত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি পরস্পরের আসন পরিবর্তন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল শপথসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চারজন। তাঁরা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, সাচিং প্রু জেরিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের শপথ এবং গোপনীয়তা রক্ষার শপথ পাঠ করান।
এর আগে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি ভোট বৈধ হয়।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করলেন। একই দিনে নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথের মাধ্যমে সরকারের মন্ত্রিসভাতেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন কার্যকর হলো।