
রংপুরে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
রোববার এক বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, একটি পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে হত্যার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতার বড় দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সত্য হলে এটি শুধু একটি পরিবারের ওপর সংঘটিত নৃশংস অপরাধ নয়; দেশে মাদক, কিশোর-তরুণ অপরাধ ও সামাজিক সহিংসতার ভয়াবহ বিস্তারেরও অশনি সংকেত।
সাইফুল হক অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক সিন্ডিকেট তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তার বন্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতির সুযোগে অপরাধী চক্র আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
তিনি রংপুরের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও মৌলিক দায়িত্ব। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, মাদক ও অপরাধের বিস্তার ঘটতে থাকলে সরকারের সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সাইফুল হক নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত স্বজনদের এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।