
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে বিভিন্ন ভাতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর মধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাজস্ব আদায় দুর্বল থাকার পাশাপাশি বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নিতে হতে পারে। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে কাটছাঁটের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের আয় বাড়ার ফলে বাজারে চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন-ভাতা একই হারে না বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আয়বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। উৎপাদন ও সেবা খাতেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার অবশ্য বলছে, গত ১২ বছর নতুন পে-স্কেল না হওয়া এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর চাপ কমাতে দুই বছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।