
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকটে কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশের নির্ধারিত এলএনজি চালানে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কাতার এনার্জি পাকিস্তানসহ ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি ক্রেতাকে সরবরাহ বাতিলের বিষয়ে জানিয়েছে।
কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দুই দেশ থেকেই নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মাঝেমধ্যে চালান এলেও তা দেশের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব দেশ এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং যাদের আমদানির বড় অংশ কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, তারা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সেই তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের নাম রয়েছে।
কাতারের এলএনজি সরবরাহের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য উৎপাদক দেশ থেকে সরবরাহ বাড়ছে। তবে এসব বিকল্প উৎস এখনো কাতারের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না। এশিয়ার কিছু দেশ গ্যাসের ব্যবহার কমাচ্ছে বা অন্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষায়িত এলএনজি জাহাজের সীমিত প্রাপ্যতা এবং কাতারের গ্যাস রপ্তানির বিকল্প পথের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কাতারের ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি উৎপাদন অবকাঠামোর কিছু অংশ মেরামতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য আগের অবস্থায় ফিরতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও গ্যাস সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।