
ভিসা ও আবাসন সমস্যাসহ নানা কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর যাতায়াত কমে গেছে। এতে শহরটির চিকিৎসা পর্যটনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগায় ব্যবসা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক হাসপাতাল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশি রোগীদের আবাসন জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, কলকাতার একাধিক হাসপাতাল আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং কলকাতায় নিরাপদ আবাসনের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।
হাসপাতালগুলো এমন হোটেল ও গেস্ট হাউজের তথ্য দেবে, যেগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশের হোটেল ও লজের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। কলকাতা যাওয়ার আগে আইনগত অনুমোদন রয়েছে—এমন নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটসংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। এরপর নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় নানা অনিয়মের অভিযোগে কম বাজেটের বেশ কিছু হোটেল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এতে কম খরচে কলকাতায় অবস্থান করতে চাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকদের আবাসন সংকট আরও বেড়ে যায়।
কলকাতার হাসপাতালগুলোর কর্মকর্তাদের ধারণা, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য যাওয়া অনেক রোগীর পক্ষে উপ-হাইকমিশনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন হতে পারে। তাঁদের অনেকে সড়কপথে ভারতে যান এবং চিকিৎসা ব্যয় কম রাখার পাশাপাশি আবাসনেও কম খরচের বিকল্প খোঁজেন। ফলে অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চিত হোটেল বা গেস্ট হাউজে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।
নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালটির কাছাকাছি নিজস্ব আবাসিক সুবিধা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
হাসপাতালটির গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা সফর আরও সহজ করতে হাসপাতালের কাছেই থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত নিজস্ব আবাসন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত তা চালু করার আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। হাসপাতালটি আলিপুর এলাকার একাধিক গেস্ট হাউজ ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
হাসপাতালটির সিইও ও অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া জানান, নিরাপদ হোটেলে থাকার বিষয়ে বাংলাদেশি রোগীদের সচেতন করা হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহে যেসব রোগীর কলকাতায় যাওয়ার কথা রয়েছে, তাঁদের আলিপুর এলাকার গেস্ট হাউজ ও হোটেলের তালিকা পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা যাত্রার আগেই কক্ষ বুক করতে পারেন।
কলকাতার কসবা এলাকার রুবি জেনারেল হাসপাতালও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। হাসপাতালটি আগেও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল। এবার আগ্রহী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ে সহায়তার জন্য আলাদা একটি ডেস্ক চালু করছে।
হাসপাতালটির অপারেশন্স বিভাগের চিফ জেনারেল ম্যানেজার শুভাশিস দত্ত জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং হাসপাতালের কাছাকাছি নিরাপদ আবাসনগুলোর একটি তালিকাও তৈরি করেছেন। রোগীরা কলকাতা যাওয়ার আগেই যেন কক্ষ বুক করতে পারেন, সে বিষয়ে হাসপাতালটি সহায়তা করছে।
কলকাতার হাসপাতালগুলোর এসব উদ্যোগের লক্ষ্য একদিকে বাংলাদেশি রোগীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, অন্যদিকে ভিসা ও হোটেলসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কমে যাওয়া চিকিৎসা যাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক করা।