
আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। ইয়েমেনের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রণালির মাঝামাঝি অবস্থিত ময়উন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি যোদ্ধারা। কৌশলগত অবস্থানের কারণে দ্বীপটি বাব আল-মানদেব নৌপথের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, বৃহস্পতিবার ময়উন দ্বীপ থেকে সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী কয়েকটি নৌকা দ্বীপটিতে পৌঁছায়।
পেরিম নামেও পরিচিত ময়উন দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত। সরকারি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেখানে হুতিরা অবস্থান নেয় এবং দ্বীপটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, বাব আল-মানদেবের উপকূলজুড়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা সামরিক যানবাহনে এলাকায় টহলও দিচ্ছেন।
বাব আল-মানদেব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের মধ্যে গত সপ্তাহ থেকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের শুরু করা অভিযানে কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংঘাতের কারণে হাজারো পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলে নেওয়ার দাবি করে হুতি বাহিনী। মোখার নিয়ন্ত্রণের পর বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাব আল-মানদেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের দিকে যাতায়াতকারী জাহাজের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে হুতিদের এই প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য এ পথে চলাচলের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হুতি নিয়ন্ত্রিত মোখা বিমানবন্দরে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুতিদের পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশন। তাদের দাবি, শুক্রবার বিমানবন্দরটিতে দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
গত সপ্তাহে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে হুতি যোদ্ধারা। কয়েক দিনের মধ্যে মোখা বন্দর এবং এরপর বাব আল-মানদেবের গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এর ফলে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আরও কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে।