স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও সামরিক নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের নীতি ঘিরে তৈরি হওয়া টানা কয়েক মাসের প্রকাশ্য তিক্ততার পর অবশেষে এক টেবিলে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) দারিও আমোদেই। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে আমোদেইয়ের একটি একান্ত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রযুক্তি শিল্পের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি সান ফ্রান্সিসকো থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই নৈশভোজের পরিকল্পনার খবরটি প্রকাশ করে জানায়, এটিই হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অ্যানথ্রপিক প্রধানের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি একান্ত বৈঠক।
গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরি কিংবা আমেরিকার অভ্যন্তরে ব্যাপক নজরদারির কাজে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান দারিও আমোদেই। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরোধ তুঙ্গে ওঠে এবং মার্কিন সরকার অ্যানথ্রপিকের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এমনকি পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যানথ্রপিককে তাদের 'সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি' হিসেবে চিহ্নিত করে। সম্প্রতি মার্কিন একটি ফেডারেল আপিল আদালত পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন, যার ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ হারায়। ওই আদালত আদেশের ঠিক দুই দিনের মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আমোদেইকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণের এ সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত গতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এর বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছিলেন আমোদেই। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প আমোদেইকে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন যে, আমোদেই 'একেবারে নিখুঁত একটা ছোট্ট দেবদূত' হওয়ার ভান করছেন।
সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইকে দেখা যায়নি, যদিও সেখানে আমোদেইয়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ও ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা আমন্ত্রিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় এআই প্রযুক্তি উন্নয়ন ধীরগতির করতে আগ্রহী নয়। কারণ, মার্কিন সরকারের আশঙ্কা—ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, গুগল ও মেটার গতি থমকে গেলে এই উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চে চীন একক প্রাধান্য বিস্তার করবে।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআই-এর নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানান, 'আমি এসব নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নই।' এদিকে হোয়াইট হাউসের এই নৈশভোজের পরই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে একটি যৌথ বৈঠকে বসবেন।