
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য প্রদর্শিত হয়ে আসছিল নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। সম্প্রতি সিনেমা দুটি আর প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্তের কথা সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর পেছনে নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই রয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সিনেমা সরবরাহের কাজ করে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটনের ভাষ্য অনুযায়ী, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল। প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আপাতত আর প্রদর্শন করা হবে না।
কাজী রিটন জানান, তাঁদের বলা হয়েছে সিনেমা দুটি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রদর্শিত হয়েছে। তাই আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে আবার প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমা দুটি বাদ দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।
বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টের সিনেমা, টিভি অনুষ্ঠান ও অডিওর তালিকা নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর এই কনটেন্ট তালিকা পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ইন-ফ্লাইট বিনোদনের কনটেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স চুক্তি, উড়োজাহাজের সার্ভারের ধারণক্ষমতা এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টির বিষয় বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ বিমান এসব সিনেমা বা অনুষ্ঠানের মালিক নয়। বিভিন্ন মিডিয়া ব্রোকার ও কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদর্শনের লাইসেন্স নিয়ে সেগুলো যাত্রীদের দেখানো হয়। লাইসেন্সের মেয়াদ বা নির্ধারিত কনটেন্ট সাইকেল শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া বিমানের ভেতরের সার্ভারের ধারণক্ষমতাও সীমিত। ফলে নতুন সিনেমা, টিভি শো ও অডিও যুক্ত করতে পুরোনো কনটেন্ট সরিয়ে জায়গা তৈরি করতে হয়। যাত্রীদের জন্য বিনোদনের বৈচিত্র্য ধরে রাখতেও নিয়মিত তালিকা পরিবর্তন করা হয়।
তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। সিনেমাটি একাধিক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। অন্যদিকে ‘চিত্রা নদীর পারে’ মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে এবং এটিও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিভিন্ন বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমা দুটি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ বা বাদ দেওয়া হয়নি; বরং দীর্ঘদিন প্রদর্শনের পর নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আপাতত তালিকা থেকে সরানো হয়েছে।