
হান্সি ফ্লিকের অধীনে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনা। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম ১১ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৪৮ গোল করেছে কাতালান ক্লাবটি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে গোলসংখ্যায় এখন সবার ওপরে তারা।
এই দুর্দান্ত ছন্দের সর্বশেষ প্রমাণ মিলেছে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে। শনিবার রাতে বেতিসের মাঠে স্বাগতিকদের ৫-২ গোলে হারিয়েছে ফ্লিকের দল।
লা লিগায় প্রথম নয় ম্যাচের সব কটিতেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই নয় ম্যাচে তাদের গোল ৩৯টি। একই সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা দলের সংগ্রহ ১৯টি। অর্থাৎ গোল করার দিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বার্সেলোনা।
তবে এত গোল আর টানা জয়ের পরও ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় শিরোপাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ফ্লিক। ম্যাচ শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বার্সেলোনা কোচ বলেন, ‘ভালো। তবে আমাদের লক্ষ্য ট্রফি। আমরা এর চেয়েও বড় কিছু জিততে চাই। ফুটবল তো সে জন্যই খেলি।’
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার গোল করার গতি যে কতটা বেশি, তা বোঝা যায় ইউরোপের অন্য বড় ক্লাবগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে।
লা লিগায় ৩৯ গোলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম দুই ম্যাচে নয় গোল করেছে দলটি। সব মিলিয়ে ১১ ম্যাচে তাদের গোল ৪৮টি, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪.৩৬ গোল।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ১০ ম্যাচে জার্মান ক্লাবটির গোল ৩৬টি। ১০ ম্যাচে ২৯ গোল নিয়ে যৌথভাবে পরের অবস্থানে ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন। ম্যানচেস্টার সিটি ১১ ম্যাচে করেছে ২৮ গোল।
অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্নের চেয়েও ১২ গোল বেশি করেছে বার্সেলোনা।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগের শক্তি শুধু গোলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। দলটির হয়ে একাধিক খেলোয়াড় নিয়মিত গোল করছেন, যা প্রতিপক্ষের জন্য রক্ষণ সামলানো আরও কঠিন করে তুলছে।
চলতি লা লিগায় এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন ১১ জন আলাদা খেলোয়াড়। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো দলেরই এর চেয়ে বেশি গোলদাতা নেই। সেভিয়ারও ১১ জন আলাদা খেলোয়াড় গোল করেছেন।
অন্যদিকে, ১১ ম্যাচের ছয়টিতেই অন্তত পাঁচ গোল করেছে বার্সেলোনা। মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাদের সর্বনিম্ন গোলসংখ্যা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে—সেই ম্যাচেও দুই গোল করেছিল দলটি।
এই পরিসংখ্যান বলছে, বার্সেলোনাকে থামাতে প্রতিপক্ষের জন্য কেবল একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে আটকে রাখাই যথেষ্ট নয়। আক্রমণের বিভিন্ন জায়গা থেকেই গোল করার সামর্থ্য দেখাচ্ছে ফ্লিকের দল।
বার্সেলোনার বর্তমান ছন্দ অব্যাহত থাকলে সামনে একাধিক গোলের রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে।
ইউরোপের বড় লিগগুলোর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তুরিনোর নাম রয়েছে সবার ওপরে। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ১২৫ গোল করেছিল ইতালির ক্লাবটি। এরপর রিয়াল মাদ্রিদ ২০১১-১২ মৌসুমে ১২১ এবং ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১১৮ গোল করে।
বার্সেলোনারও লা লিগায় এক মৌসুমে ১১৬ গোল করার নজির রয়েছে, যা তারা গড়েছিল ২০১৬-১৭ মৌসুমে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোল ১৯০টি। ২০১১-১২ মৌসুমে ৬৪ ম্যাচে এই গোল করেছিল দলটি। সে মৌসুমে লিওনেল মেসি একাই করেছিলেন ৭৩ গোল।
চলতি মৌসুমে মাত্র ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল করে সেই ক্লাব রেকর্ডের পথে ভালো সূচনা করেছে ফ্লিকের দল। তবে মৌসুমের বড় অংশ এখনো বাকি। সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন প্রতিপক্ষও।
বার্সেলোনার বর্তমান সামর্থ্যের বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আগামী কয়েক দিনে। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে পিএসজির মুখোমুখি হবে দলটি। এরপর ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলবে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো।
এই দুই ম্যাচে বার্সেলোনার গোল করার দুর্দান্ত ছন্দ কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত ১১ ম্যাচে ৪৮ গোলের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, ফ্লিকের দলকে থামানো সহজ হবে না।