
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে অপরাধ প্রবণতা ও সামাজিক নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, বিশাল বেকারত্বের সঙ্গে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। তাই যুবকদের হতাশায় ডুবে যাওয়ার আগেই সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, বেকার যুবকদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে বিপুলসংখ্যক যুবককে অপরাজনীতির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে। দেশের বিশাল যুবশক্তির সম্ভাবনা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে মানুষের জানমাল এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনজীবনের জরুরি সংকট সমাধানে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের ন্যায্য দাবি ও আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে মানবিক ও গণতান্ত্রিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা বলেন, দেশের যেকোনো অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুবসংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিপ্লবী যুব সংহতির জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আউয়াল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন রহমান এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম হোসেন রনি, আরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম রকি, ফেরদৌস মিয়া, নান্টু দাস, রাজু আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন ও আরিফ আকবর প্রমুখ।
সভায় যুব বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, যুব আন্দোলনের কর্মসূচি এবং যুবশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠেয় বিপ্লবী যুব সংহতির জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা।