জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ‘পেটেন্টবাজির’ সমালোচনা করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, “আমাদের শহীদরা কারও পেটেন্টের জন্য জীবন দেননি। এখন অভ্যুত্থানের মালিকানা তৈরি করার জন্য, এর পেটেন্টবাজি করার জন্য অনেকে মাঠে নেমেছেন। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে দেখলে ইতিহাসের প্রতি অবিচার করা হবে। তাঁর ভাষায়, “১৭ বছর ধরে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে এই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হয়েছে। হঠাৎ করে জুলাই আসেনি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশই ছিল জুলাই অভ্যুত্থান।”
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন ছিল সমগ্র জনগণের যুদ্ধ, তেমনি জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর এত বিস্তৃত জনঅংশগ্রহণ আর কোনো আন্দোলনে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই আন্দোলনের পেছনে লাখো মানুষের দীর্ঘ ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মত্যাগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, গুম-নির্যাতন এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন—সব মিলিয়েই জুলাইয়ের বিস্ফোরণের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘ সময় নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেননি। অসংখ্য পরিবার ভেঙে গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়েছে। এই ত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করে কেউ যদি আজ অভ্যুত্থানের একক মালিকানা দাবি করতে চায়, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
সাইফুল হক আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা করতে হলে বিভাজনের রাজনীতি নয়, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কালের দাবি ডেস্ক