সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হয়েছে। শেষ বিদায়ের পুরো আয়োজনজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে মাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত শেষ জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক, বিচারিক ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির মরদেহ মাশহাদে পৌঁছানোর পর শহরের বিভিন্ন সড়কে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা শোকাহত ব্যক্তিরাও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তেহরান, কোম এবং প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও খামেনির স্মরণে বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান ও বিদায়ী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে লাখো মানুষ অংশ নেন।
মাশহাদে শোকযাত্রার সময় অনেকের হাতে লাল পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে প্রতিশোধমূলক স্লোগানও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত এক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে ইরান জানিয়েছিল। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে তার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশজুড়ে ধাপে ধাপে শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মাশহাদে তাকে সমাহিত করা হয়।

কালের দাবি ডেস্ক