সারাদেশের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক সারা বছর চলাচল উপযোগী রাখা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বিশেষভাবে দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এতে পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, যা একই সংখ্যক পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিজাত ও অ-কৃষিজাত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করতে উন্নত গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করাই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
এ প্রকল্পটি পূর্ববর্তী ‘রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম (আরইআরএমপি)’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে একটি পাইলট কর্মসূচি হিসেবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়। সর্বশেষ ২০১৯-২০২৪ মেয়াদে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয়।
নতুন প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। জলবায়ু ঝুঁকি, দারিদ্র্য এবং পরিবেশগত ঝুঁকির সূচক বিবেচনায় প্রকল্প এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-১, এসডিজি-২ এবং এসডিজি-৯ অর্জনেও সহায়ক হবে।
সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও এটি সেবাধর্মী প্রকল্প হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়নি, তবে পরিকল্পনা কমিশনের মতে পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এটি উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক সুফল বয়ে আনবে।
প্রকল্পটির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫২২ কোটি ৮৯ লাখ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫১৯ কোটি ৩১ লাখ, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫১৮ কোটি ৬৫ লাখ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) বাস্তবায়ন সময়সূচি, ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ, প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এক্সিট প্ল্যান এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ৪৫ হাজার ৭৮০ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

কালের দাবি ডেস্ক