ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাজপথ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা যাবে না: সাইফুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2026 ইং
রাজপথ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা যাবে না: সাইফুল হক ছবির ক্যাপশন: রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
ad728

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ব্যর্থ করার রাজনৈতিক আহ্বানের সমালোচনা করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, “এই মুহূর্তে বিএনপি সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে লাভবান হবে কারা? যারা আজ আরেকটি অভ্যুত্থানের ডাক দিচ্ছেন, তারা কি ক্ষমতায় যাবেন, নাকি পরাজিত ফ্যাসিস্টদের জন্য পরোক্ষভাবে জমিন তৈরি করবেন?”

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে অস্থিতিশীল করার মতো বক্তব্য দায়িত্বশীল রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষায়, “বিপ্লবের পেছনে প্রতিবিপ্লব হাঁটে, অভ্যুত্থানের পেছনে প্রতি-অভ্যুত্থান হাঁটে। তাই আরেকটি অভ্যুত্থানের ডাক দেওয়ার আগে ভেবে দেখা দরকার, এর রাজনৈতিক পরিণতি কী হতে পারে।”

তিনি বলেন, সংসদে সরকারবিরোধী সমালোচনা ও জবাবদিহি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। তবে সংসদের বাইরে সরকারকে ব্যর্থ করার প্রকাশ্য আহ্বান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমি আশা করেছিলাম সংসদের বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করবে। কিন্তু বাইরে এসে যদি সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এতে কার স্বার্থ রক্ষা হবে?”

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করেছে। এই সময়ে সব গণতান্ত্রিক শক্তির উচিত রাষ্ট্র সংস্কার, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করা।

সাইফুল হক আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, মতপার্থক্যও থাকবে; কিন্তু এমন কোনো অবস্থান গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি আবারও রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, “আমি সরকারকে দেখছি, কিন্তু রাজপথে সবসময় বিএনপিকে দেখতে পাচ্ছি না। রাজপথ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে কি রাজনীতি করা যাবে?”

সাইফুল হক বলেন, শুধু সরকার পরিচালনাই যথেষ্ট নয়; জনগণের সঙ্গে নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগ ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, “সবাই যদি শুধু সরকারে যেতে চায়, সরকারকে কেন্দ্র করেই যদি সবকিছু আবর্তিত হয়, তাহলে রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হারিয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “রাজপথে রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সামাজিক সক্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক সক্রিয়তা জারি রাখতে হবে। শুধু সরকারে বসে সব সমস্যার সমাধান হবে না।”

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। নতুন নতুন সংকটও তৈরি হচ্ছে। এসব মোকাবিলায় জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সক্রিয় রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “সাপে কাটা রোগীকে যেমন জাগিয়ে রাখতে হয়, তেমনি দেশের ২০ কোটি মানুষকেও গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জাগিয়ে রাখতে হবে।”

সাইফুল হক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে হলে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, গণসংযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।


আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
খামেনির জানাজা শুধু শোক নয়, বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিচ্ছে তেহরা

খামেনির জানাজা শুধু শোক নয়, বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিচ্ছে তেহরা