ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইইউভি নয়, পুরোনো প্রযুক্তিতেই উন্নত চিপ—চীনের অগ্রগতি নিয়ে পশ্চিমাদের দুশ্চিন্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 20, 2026 ইং
ইইউভি নয়, পুরোনো প্রযুক্তিতেই উন্নত চিপ—চীনের অগ্রগতি নিয়ে পশ্চিমাদের দুশ্চিন্তা ছবির ক্যাপশন: এএসএমএলের ইইউভি লিথোগ্রাফি সিস্টেম পরিচালনায় কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ad728

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ তৈরির দৌড়ে চীনের অগ্রগতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ইইউভি (এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট) প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার না থাকলেও পুরোনো ডিইউভি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীন উন্নত চিপ তৈরির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে—এমন মূল্যায়নের মধ্যেই ওয়াশিংটন ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামে নতুন প্রযুক্তি জোট গঠন করেছে।

এই জোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডসসহ ২৪টি অংশীদার যুক্ত হয়েছে। এর লক্ষ্য অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির আদান-প্রদান সমন্বয় করা এবং চীনের কাছে সংবেদনশীল প্রযুক্তি পৌঁছানো আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।


বিশ্বের একমাত্র ইইউভি লিথোগ্রাফি মেশিন নির্মাতা ডাচ প্রতিষ্ঠান এএসএমএলকে ঘিরে সম্প্রতি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক দাবি করেছেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হয়তো একটি ইইউভি মেশিন গোপন পথে চীনে পৌঁছেছে।

তবে এএসএমএল এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কোম্পানিটির দাবি, এখন পর্যন্ত উৎপাদিত ৩৪০টি ইইউভি মেশিনের প্রতিটির অবস্থান তাদের জানা রয়েছে এবং কোনো মেশিনই চীনে নেই।

ডাচ সরকারের অবস্থানও একই রকম সতর্ক। তারা বলছে, অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, তাই তদন্ত শুরুর প্রয়োজনও দেখা দেয়নি।


অনেক শিল্প বিশেষজ্ঞের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্বেগ ইইউভি মেশিন নয়; বরং এএসএমএলের পুরোনো ডিইউভি প্রযুক্তি। কারণ এই প্রযুক্তি নিষিদ্ধ নয় এবং ২০২৫ সালে এএসএমএলের মোট আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছে চীনে ডিইউভি মেশিন ও সংশ্লিষ্ট সেবা বিক্রি থেকে।

চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও এসএমআইসি ডিইউভি মেশিন ব্যবহার করেই ‘মাল্টি-প্যাটার্নিং’ কৌশলে ৭ ন্যানোমিটারেরও ক্ষুদ্র চিপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এতে উৎপাদন ব্যয় ও ত্রুটির হার বেশি, তবু এটি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, সাবেক এএসএমএল প্রকৌশলীদের একটি দল ২০২৫ সালে চীনে নিজস্ব ইইউভি মেশিনের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। সেটি এখনো কার্যকর চিপ উৎপাদনে সফল হয়নি, তবে চীন ২০২৮ সালের মধ্যে কার্যকর ইইউভি প্রযুক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কার্যকর ইইউভি মেশিন তৈরিতে চীনের আরও বহু বছর সময় লাগতে পারে। তবে তারা এটিও স্বীকার করছেন যে, বিকল্প প্রযুক্তিতে চীনের অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত।


চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুধু জোট গঠনেই থেমে নেই। মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত ‘ম্যাচ অ্যাক্ট’ পাস হলে চীনে নতুন ডিইউভি মেশিন বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো শত শত মেশিনের সার্ভিসিং ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহও নিষিদ্ধ হতে পারে।

এতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েনও বেড়েছে। ডাচ সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে তাদের কোম্পানিগুলোকে চীনে প্রযুক্তি বিক্রি থেকে বিরত থাকতে বলছে, অন্যদিকে নিজেই এনভিডিয়ার উন্নত এআই চিপ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে—যা একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে দ্বিমুখী করে তুলছে।

চীনের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। বেইজিং ইতোমধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান জারি করেছে এবং ডাচ চিপ শিল্পকে ঘিরে বাণিজ্যিক চাপ বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের প্রতিযোগিতা এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়; বরং বৈশ্বিক কৌশলগত ক্ষমতার লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।

সূত্র:দ্য ইকোনোমিস্ট


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না

কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না