সিলেট টেস্টে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্মরণীয় এক অধ্যায়। মাত্র ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া দলকে সামাল দিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটসম্যান। শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়াই নয়, শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে লিডের অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
প্রতিবেদন লেখার সময় হৃদয় ৩৫১ বলে ২৩৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর ইনিংসটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ব্যাটিং-নৈপুণ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো। মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর দেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি।
ইনিংসের শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না হৃদয়ের জন্য। বাংলাদেশ যখন ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখনই ব্যাট হাতে উইকেটে আসেন তিনি। শুরুতে ধীরস্থির ব্যাটিং করে প্রথম দিন শেষ করেন ২৯ রানে অপরাজিত থেকে।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলে নেন হৃদয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণাত্মক খেলেছেন, আবার সুযোগ পেলে আক্রমণ করেছেন। ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান ডাবল সেঞ্চুরিতে।
তাঁর রান তোলার গতিতেও ছিল উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রথম ৫০ রান করতে খেলেন ১০৯ বল, সময় লাগে ১৭৮ মিনিট। পরের ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৫০ রানে পৌঁছাতে আরও ৬৪ বল খেলেন। এরপর মাত্র ৬৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
হৃদয়ের ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শেষ দিকে তাঁর দায়িত্ব পালন। একের পর এক সতীর্থ আউট হয়ে ফিরলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে সাহস জুগিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, যাতে দলের রান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয় যোগ করেন ১৭২ রান। শুধু উইকেটে টিকে থাকাই নয়, প্রয়োজনমতো চার ও ছক্কা মেরে স্কোরও এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের ইনিংস নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান হলেও একটি জায়গায় আলাদা হয়ে থাকবেন হৃদয়। দেশের কোনো ব্যাটসম্যান এর আগে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি। নিজের মাত্র ষষ্ঠ টেস্ট ইনিংসেই এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
সিলেট টেস্টের ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে হৃদয়ের ইনিংস ইতিমধ্যে ম্যাচের অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে উঠেছে। ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে লিডের অবস্থানে নেওয়ার কাজটি করেছেন তিনি।
এখন সতীর্থদের সামনে দায়িত্ব এই লড়াইকে কার্যকর পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া। হৃদয়ের ব্যাটে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, সেটিকে জয়ে রূপ দিতে পারলে তাঁর অসাধারণ ইনিংসের মাহাত্ম্য আরও বাড়বে।

কালের দাবি ডেস্ক