ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ার দিনেই রামপালের এক ইউনিট বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু হওয়ার দিনেই রামপালের এক ইউনিট বন্ধ ছবির ক্যাপশন: ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।(প্রতীকী ছবি)
ad728

কয়লাস্বল্পতার কারণে প্রায় এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনে থাকা ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট গত বুধবার রাতে কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন আরও কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং বেড়েছিল।

রোববার সকালে মেরামতের কাজ শেষ করার পর দুপুর ১২টার দিকে বন্ধ ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এরপর থেকে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে।

পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ১টার দিকে আদানির দুই ইউনিট মিলিয়ে সরবরাহ ৮৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। দিনের পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়তে পারে।


আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রোববার ভোরে মেরামতের কাজ শেষ করে ইউনিটটিকে পুনরায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

দুপুরের দিকে এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রটি থেকে সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে।


আদানির ইউনিট চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়। ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কী কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে, তা শনাক্ত করতে কাজ চলছে। দ্রুত ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লাভিত্তিক। এর আগে কয়লাস্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়লার মজুত পর্যাপ্ত থাকায় কেন্দ্রটি ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।


আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে পিডিবি।

ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন কিছুটা বাড়িয়ে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

গত বুধবার রাতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।


আদানির বন্ধ ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে একই সময়ে রামপালের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রামপালের বন্ধ ইউনিটটি দ্রুত সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারে। বর্তমানে দুই বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে এই ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করলো এনসিপি

‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করলো এনসিপি