ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাতিরঝিলে সমাবেশে সাইফুল হক: "বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনই জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।"

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 18, 2026 ইং
হাতিরঝিলে সমাবেশে সাইফুল হক: "বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনই জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।" ছবির ক্যাপশন: হাতিরঝিলে আয়োজিত শহীদ স্মরণ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
ad728



জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পুঁজি বাড়ানোর জন্য জীবন দেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে দেশে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি খাতে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগে কাদেরিয়া পার্টি সেন্টার মিলনায়তনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ সব শহীদের স্মরণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সাইফুল হক বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের জীবনদানকে কোনো ব্যক্তি, দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি সরকারের প্রতি অবিলম্বে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান।

দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, কর্মহীনতা এবং চাকরিচ্যুতির ঘটনা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তাও এখনো নিশ্চিত হয়নি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশীয় জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বাপেক্সসহ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। আমদানিনির্ভরতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সক্ষমতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সাইফুল হক বলেন, কয়েকটি ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে না পারলেও গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে তারা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, এ সময়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে যে ধরনের শাসনপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, সেই ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তবে তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে যেসব প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে, এখন দেশের মানুষ সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাইবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হলেও সাধারণ মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। নারী অধিকার ও মর্যাদাবিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি নারী বিদ্বেষী সব ধরনের অপতৎপরতা আইন করে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, বিএনপি সরকারকে অবশ্যই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ধারণ করতে হবে। তিনি আগামী সংসদ অধিবেশনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছিল ব্যাপক। কিন্তু এই শ্রেণির মানুষ এখনো সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও নির্যাতিত। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

তারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ ত্যাগ স্বীকার করলেও গত দুই বছরে এর সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে চলে গেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে নেতারা বলেন, জনগণের অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তি নিশ্চিত করতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি তার রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির হাতিরঝিল আঞ্চলিক কমিটির নেত্রী নার্গিস আক্তার লিমার সভাপতিত্বে এবং ফিরোজ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান ও মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, বিএনপির স্থানীয় নেতা আব্দুর রশীদ খান, আখতারুজ্জামান রাজিব, মাহমুদুল হাসান মাধু এবং নারী নেত্রী মরিয়ম আক্তারসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রথম সংস্কার হওয়া উচিত রাজনীতিকদের মাথায়: সাইফুল হক

প্রথম সংস্কার হওয়া উচিত রাজনীতিকদের মাথায়: সাইফুল হক