ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১,৪৫০, ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 29, 2026 ইং
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১,৪৫০, ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষ ছবির ক্যাপশন: ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে
ad728

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিনের বেশি সময় পার হলেও উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

রোববার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের কারাবালেদা শহরে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। এই উদ্ধার কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ।

জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রড্রিগেজ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন উদ্ধার অভিযান অনেক ক্ষেত্রে লাশ উদ্ধারে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাতুকাকাসে উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয় এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে আসা বাসিন্দা হেক্টর আগুইলেরা বলেন, “আমরা একা তাদের বের করতে পারছি না। আমরা জানি তারা আর বেঁচে নেই, তবুও তাদের মরদেহ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছি।”

এদিকে দুর্যোগের সুযোগে লা গুয়াইরা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসি ও সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান এখনো বন্ধ করা হয়নি এবং জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা নিয়েই উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকার জানায়, ২৪টি দেশ থেকে ৫২১ টন ত্রাণসামগ্রী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী কুকুরসহ ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা বাড়িয়েছে। দেশটির সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি একটি সমুদ্রবন্দর পুনরায় চালু করতে আরও ২৩০ জন সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশ। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির জন্য এই দুর্যোগ পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আগামী বছরে সব চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে : প

আগামী বছরে সব চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে : প