আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং রংপুর বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি জানান, কেউ যদি প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ায় বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে, তাহলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান সংস্কারের বিষয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আবশ্যিক এবং অভিন্ন বিষয়গুলোতেও একই প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সব ধারার শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে আরও সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক মাদ্রাসা পরিদর্শক না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তদারকির বাইরে থেকে যায়। এ সমস্যা সমাধানে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোকে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
কালের দাবি ডেস্ক