জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে পার্টির নেতাকর্মীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, কেন্দ্রীয় সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, মাসুদুর রহমান মাসুদ, কেন্দ্রীয় সংগঠক স্বাধীন মিয়া এবং ঢাকা মহানগর কমিটির আরিফুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যম ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, প্রায় একশ বছর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই জনপদের আপামর মানুষের দ্রোহ, প্রতিবাদ, প্রেম ও প্রত্যাশাকে তাঁর কবিতা, গান ও লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত ও লাঞ্ছিত মানুষের অব্যক্ত যন্ত্রণা, আকাঙ্ক্ষা, দ্রোহ ও প্রেমের এক অনন্য যুগলবন্দী ছিল নজরুলের সৃষ্টিশীলতায়।
সাইফুল হক বলেন, কবির আরাধ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠন। এ কারণে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের পাশাপাশি ধর্মীয় গোড়ামি ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধেও নজরুল ছিলেন আপসহীন ও নিরলস যোদ্ধা।
তিনি বলেন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শতাব্দীজুড়ে নজরুল আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় কবি মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি মানুষের ভরসার স্থল হয়ে থাকবেন।
নজরুলের সাহিত্যকর্মে বাঙালি মুসলমান সমাজের ধর্মীয় চেতনা ও আবেগের প্রতিফলনের বিষয়টিও তুলে ধরেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, কবি তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের শেষ দিকে বাঙালি মুসলমানের ধর্মীয় চেতনা ও আবেগকে অসাধারণ দক্ষতা ও মমতার সঙ্গে হামদ, নাত ও গজলের মাধ্যমে ধারণ করেছেন। বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠতেও নজরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সাইফুল হক বলেন, নজরুলের সাহিত্য কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিচ্ছবি নয়; বরং শোষণ, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। তাই বর্তমান সময়েও তাঁর চিন্তা ও আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে শোষণ ও বৈষম্যহীন সাম্যবাদী, মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের সংগ্রামে কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের বাতিঘর হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন।
এ সময় দলটির নেতারা বলেন, নজরুলের দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

কালের দাবি ডেস্ক