ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাচ্ছেন আইজেনকোট।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। আলোচনার পর তিনি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে ৬৭টি সুপারিশ জমা পড়ে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ ছিল ৪৬টি।
প্রেসিডেন্ট হারজগ তাঁর সিদ্ধান্তের কথা আইজেনকোট ও নেতানিয়াহু—দুজনকেই জানিয়েছেন।
ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে দায়িত্ব দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং কে জোট গঠনে বেশি সক্ষম, তা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তাদের কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি ও তাঁর জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট—মিলিয়ে পেয়েছে ১৯টি আসন। আরব ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার বেড়ে যাওয়াকে এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই আসনগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে ইহুদি দলগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া অন্য দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ইসরায়েলে সরকার গঠনের কয়েকটি সম্ভাব্য পথ সামনে আসে। এর মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী জোট অথবা আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষয়টি আইজেনকোটের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। তাঁর জোটের একজন ছাড়া অন্য সদস্যরা আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকোট। কিন্তু সেই পথও সহজ হবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট হারজগ আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, স্থিতিশীল সরকার গঠনের স্বার্থে দলগুলো নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব না-ও হতে পারে—এ বাস্তবতা বিবেচনায় নেবে।
ইসরায়েলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচনের পরও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি। পরে নেতানিয়াহু ও তাঁর মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে সম্মত হন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পালাক্রমে দুজনের সরকার পরিচালনার কথা ছিল।
এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘ অস্থিরতা চলেছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ওই সময়ে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারও নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত না হওয়ায় জোট গঠনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইজেনকোটের সামনে এখন ২৮ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ।

কালের দাবি ডেস্ক