ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে শহীদ স্মরণ সমাবেশ জননেতা সাইফুল হক: বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারত ‘হাসিনা কার্ড’ খেলছে।

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 7, 2026 ইং
নারায়ণগঞ্জে শহীদ স্মরণ সমাবেশ জননেতা সাইফুল হক: বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারত ‘হাসিনা কার্ড’ খেলছে। ছবির ক্যাপশন: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
ad728


বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা কোনো বিশেষ শক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জীবন দেননি। তারা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদসহ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘শহীদ স্মরণ সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সাইফুল হক বলেন, ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে যারা সেটিকে ‘প্যাটেন্ট’ করার চেষ্টা করছেন, তারা গণঅভ্যুত্থানের আত্মাকে ধারণ করতে পারেননি। এ ধরনের প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, চাকরিচ্যুতি ও কর্মহীনতা আরও বেড়েছে। মানুষের জীবন-জীবিকা এখনো নিরাপদ হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো হলেও শ্রমিকদের জন্য এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি।

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাইফুল হক বলেন, বিদেশ নির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হয়েছে। জ্বালানি খাতে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের বাংলাদেশ নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতের বাংলাদেশ নীতির পরাজয় হলেও দেশটির নীতিনির্ধারকেরা সেখান থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত একদিকে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করছে।

দেশি-বিদেশি সব ধরনের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার হলেও মানুষের জীবন, বিশেষ করে নারীদের জীবন এখনো নিরাপদ হয়নি। নারীর অধিকার ও মর্যাদার বিরুদ্ধে অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি নারী বিদ্বেষী সব অপতৎপরতা আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, বিএনপি সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ধারণ করতে হবে। তিনি সংসদের আগামী অধিবেশনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি শহীদ হলেও তারাই এখন সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত ও নির্যাতিত। শ্রমিকেরা বাঁচতে না পারলে শহীদদের জীবনদান বৃথা হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের সব অংশ ত্যাগ স্বীকার করলেও গত দুই বছরে এর সুফল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আত্মসাৎ করেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ইনসাফ ও মুক্তি নিশ্চিত করতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য রাশিদা বেগম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ শিমুল, মীর রেজাউল আলম এবং নৌ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার আনিসুর রহমানসহ জেলা কমিটির নেতারা।

সমাবেশের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ অভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আমরা একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো: যুগপৎ শরিকদের প্রধ

আমরা একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো: যুগপৎ শরিকদের প্রধ