ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে, কেন দেরি হচ্ছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 13, 2026 ইং
নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে, কেন দেরি হচ্ছে ছবির ক্যাপশন: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পরও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রতীকী ছবি
ad728


এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর এর প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন সপ্তাহখানেকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক আমলাদের মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ পার হতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, কখনো আরও বেশি সময় লাগতে পারে।


মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুমোদিত পে-স্কেলের খসড়া এখনো তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। অর্থাৎ খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, খসড়াটি আটকে রাখা হয়নি। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই কিছুটা সময় লাগছে।


মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়, সেখানে মূলত বিভিন্ন গ্রেডে বেতন-ভাতা কতটা বাড়বে, তার সামগ্রিক কাঠামো থাকে। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।

কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনভাবে নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন, বেতন-ভাতা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ও চূড়ান্ত খসড়ায় স্পষ্ট করতে হয়।

জনপ্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনাও এতে থাকতে হয়।


অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে খসড়াটি আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হয়।

এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ভাষা, শব্দ ও আইনি পরিভাষায় কোনো অস্পষ্টতা বা দ্ব্যর্থকতা রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়। ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা বা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ কমাতেই এই ভেটিং প্রক্রিয়া করা হয়।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা বা সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়াও একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হতে পারে।


আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। এরপর সেটি সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

মুদ্রণ সম্পন্ন হলে অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। ফলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরাসরি গেজেট প্রকাশ না হয়ে বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে দ্রুতই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্বেগের মধ্যে আগের পে-স্কেলের সময়ের হিসাবও সামনে এসেছে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় সেটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের উদাহরণ থেকে দেখা যায়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হতে সময় লাগা অস্বাভাবিক নয়।


নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে ২০তম গ্রেডে। এ গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে, অর্থাৎ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জুলাই থেকেই এর আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের।


নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতন কাঠামো নিয়ে আরও পর্যালোচনা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নতুন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।

এখন সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা প্রজ্ঞাপন জারির। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জি–৭ সম্মেলনের ছবি বিতর্কে ট্রাম্প-মেলোনি সম্পর্কে নতুন উত্ত

জি–৭ সম্মেলনের ছবি বিতর্কে ট্রাম্প-মেলোনি সম্পর্কে নতুন উত্ত