আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করতে আমদানি-রপ্তানির নথি ডিজিটালভাবে আদান-প্রদানের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণপত্র (এলসি) ও ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১ জুলাই একটি নির্দেশনা জারি করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এ উদ্যোগে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল নথির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছেই থাকবে। এসব তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে কোনো পাবলিক বা শেয়ার্ড অবকাঠামোয় সংরক্ষণের প্রয়োজন হবে না। নির্ধারিত মান পূরণ হলে ডিজিটাল দলিলকে কাগজভিত্তিক নথির আইনগত বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
এই ব্যবস্থার আওতায় ইনভয়েস, পরিবহন দলিল, ড্রাফটসহ বিভিন্ন ট্রেড ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে যেসব দেশে ডিজিটাল দলিলের আইনগত স্বীকৃতি নেই, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজভিত্তিক নথি সংরক্ষণ করতে হবে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, লেনদেনের ধরন, অংশীজন এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, পুরো ব্যবস্থায় এনক্রিপশন, অথেনটিকেশন এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
কালের দাবি ডেস্ক