ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে মন্থর প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2026 ইং
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে মন্থর প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ছবির ক্যাপশন: প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
ad728

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.২ শতাংশ। একই সময়ে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরেও অর্থনীতির পুনরুদ্ধার জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। ২০২৭–২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে তা যথাক্রমে ২.৮ ও ২.৯ শতাংশ হতে পারে। ২০৩০–৩১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে ৩.৪ শতাংশ এবং এডিবি ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার চলতি অর্থবছরে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে আইএমএফের পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের অর্থনীতির কয়েকটি বড় ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল ব্যাংক খাত, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি এবং রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমানো, কর্মঘণ্টা হ্রাস কিংবা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০.২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে ৩৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতিও অর্থনীতির দুর্বলতার একটি বড় প্রতিফলন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে গত অর্থবছরে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে উঠেছে। চলতি অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ২২.৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব সংগ্রহে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয় সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানো কঠিন হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বাধাগুলো দূর করা জরুরি। দুর্বল ব্যাংক খাতের সংস্কার, জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি, বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও প্রকট হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রায় তিনগুণ দামে এলএনজি কিনছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রায় তিনগুণ দামে এলএনজি কিনছে সরকার