ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন: শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন: শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক ছবির ক্যাপশন: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও নির্যাতন বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
ad728

সৌদি আরবে বাংলাদেশিসহ প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শ্রমিকদের ন্যূনতম মানবিক ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে কর্মী পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনারও আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন সাইফুল হক। সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের প্রতিবাদ, প্রবাসী শ্রমিকদের হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ এবং তাঁদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধের দাবিও জানানো হয়।


প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় জবাবদিহি দাবি

সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে এখনো সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক বন্দি রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁদের আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর পর তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আইনি সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসগুলোর কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের শুধু বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়াকেই দায়িত্বের শেষ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান সাইফুল হক।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শ্রমিকদের অমানবিক ও অনিরাপদ জীবন মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।


নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রবাসী নারী শ্রমিকদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, বিদেশে নারী শ্রমিকদের জীবন ও সম্মান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাওয়া অনেক নারী নিয়োগকর্তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও নির্যাতনের শিকার হন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনো কোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি তাঁদের জীবন, ভবিষ্যৎ ও অনাগত সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে, সেই প্রশ্ন তোলেন।

সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালীও নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক নারী শ্রমিককে বিদেশে যৌন নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হতে হয়। তাঁদের ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বহ্নিশিখা জামালী আরও বলেন, প্রতিদিন দেশে ১৬ জন শ্রমিকের মরদেহ আসে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। শ্রমিকদের এমন অনিশ্চিত জীবন ও নিরাপত্তাহীনতা বন্ধে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


শ্রমিক পাঠানো ও নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি

সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কর্মী পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান সাইফুল হক। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সিন্ডিকেট নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। সাইফুল হকের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় যেতে শ্রমিকদের কাছ থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট বা বাণিজ্য থাকা উচিত নয়। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আলোচনা করে কর্মী পাঠানোর প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন সাইফুল হক।


সরকারের স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহি দেশের জনগণ ও ভোটারদের কাছে, কোনো পরাশক্তি বা রাজতন্ত্রের কাছে নয়। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরব থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।


গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি

দেশের অভ্যন্তরে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার সংকট তুলে ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান সাইফুল হক।

তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরির দাবি রয়েছে। শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া হকার, রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে উচ্ছেদের আগে তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করে পুলিশ দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের ওপর উচ্ছেদ ও ভাঙচুর চালানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক।

তিনি বলেন, বেকারত্ব বাড়তে থাকলে সমাজে অপরাধপ্রবণতাও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।


সমাবেশে আরও যারা বক্তব্য দেন

বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ আলী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সহসভাপতি রাশিদা আক্তার এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আনিসুর রহমান মাস্টার প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাসিনাকে ঘিরে টানাপড়েনে আটকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক

হাসিনাকে ঘিরে টানাপড়েনে আটকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক