দেশের জ্বালানি, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুখবর দিয়েছে সরকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগের সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন যুগের সূচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শহরের বস্তি এলাকায় উন্নত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামেও ভাড়াভিত্তিক ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম রোধে দেশব্যাপী সুবিধাভোগীদের তালিকা পুনঃযাচাইয়ের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবীণ ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের মাসিক ভাতাও ৭০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী প্রধানের নামে 'ফ্যামিলি কার্ড' এর মাধ্যমে ভাতা বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
কালের দাবি ডেস্ক