ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষের জীবনে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 19, 2026 ইং
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষের জীবনে ছবির ক্যাপশন: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। ছবি: রয়টার্স
ad728

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার না হলেও এর অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ মানুষের বসবাস। এসব দেশ বিভিন্ন মাত্রায় আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের প্রভাব তাদের অর্থনীতিতে পড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতার মাত্রা অবশ্য এক নয়। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহের বিভিন্ন পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় চার দেশেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

ভারত তার ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। যুদ্ধের আগে দেশটির বড় সরবরাহকারীদের মধ্যে ছিল ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। এলএনজির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। তবে ভারত রাশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি করে। ফলে অন্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় দেশটির সরবরাহব্যবস্থা কিছুটা বৈচিত্র্যপূর্ণ।

পাকিস্তানও অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও এলএনজির ক্ষেত্রে আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী। এলএনজির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার।

বাংলাদেশে নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন থাকলেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ফলে দেশটি ক্রমেই এলএনজি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কাতার বাংলাদেশের এলএনজির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিশোধিত জ্বালানি তেলও আমদানি করে।

নেপাল সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল বা এলএনজি আমদানি করে না। স্থলবেষ্টিত দেশটি পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হলে নেপালেও তার পরোক্ষ প্রভাব পড়ে।

জ্বালানির দাম ও সরবরাহের ওপর এই চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গিয়ে পড়ছে। পাকিস্তানের করাচির গৃহকর্মী সাজিদা জিবরানের মতো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর বাড়িভাড়া ১৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি থেকে বেড়ে ২৫ হাজার রুপি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও বেড়েছে। ফলে খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের মধ্যে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

ভারতের নয়ডায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করা ৬৭ বছর বয়সী বলেন্দ্র সিংও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কয়েকজনকে গ্রামে পাঠাতে হয়েছে, কারণ শহরে এতজনের খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের খরচও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে পরিবারের খাবারের তালিকায় মাছ ও অন্যান্য পণ্যের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের ঢাকায় গৃহকর্মী আসমা বেগমের আয়ও বাড়েনি, বরং কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে তাঁর ওপর চাপ বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় কিছু পরিবার গৃহকর্মী রাখার খরচ কমিয়ে নিজেরাই কাজ করছে। ফলে একটি পরিবারের ব্যয় সংকোচনের প্রভাব অন্য পরিবারের আয়ের ওপরও পড়ছে।

নেপালের কাঠমান্ডুর কুলি বসন্তের আয়ও অনিয়মিত। কোনো দিন ৫০০ টাকা আয় হলেও কাজ কম থাকলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় তিনি নিজে রান্না করার বদলে কম খরচের রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখাচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার বা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের খরচেও তার প্রভাব পড়ছে।

ফলে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষের জন্যও সংঘাতটি পরিণত হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার নতুন চাপে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকাশিত হলো বহ্নিশিখা জামালীর তৃতীয় গ্রন্থ ‘বৈরী রাষ্ট্র: ম

প্রকাশিত হলো বহ্নিশিখা জামালীর তৃতীয় গ্রন্থ ‘বৈরী রাষ্ট্র: ম