ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সালমান শাহকে হারানোর ৩০ বছর, আজও অমলিন সেই রাজপুত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 6, 2026 ইং
সালমান শাহকে হারানোর ৩০ বছর, আজও অমলিন সেই রাজপুত্র ছবির ক্যাপশন: তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত
ad728

আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। মাত্র ২৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। দেখতে দেখতে তাঁর মৃত্যুর তিন দশক পূর্ণ হলো। তবে দীর্ঘ এই সময়েও দর্শকের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি।

সালমান শাহর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন সালমান শাহ।

শৈশব থেকেই গান, মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যেত। তবে চলচ্চিত্রে তাঁর প্রবেশ অনেকটাই আকস্মিক। শুরুতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এলে পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রথম দিকে আপত্তি ছিল। পরে পরিবারের সম্মতিতে রুপালি পর্দায় পা রাখেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ নিজেই জানিয়েছিলেন, পেশাদার শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন—এমনটা কখনো ভাবেননি। কিন্তু সেই আকস্মিক যাত্রাই পরবর্তী সময়ে বদলে দেয় তাঁর জীবন এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের একটি অধ্যায়।

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেন সালমান শাহ। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা ও পর্দায় প্রাণবন্ত উপস্থিতি। পাশাপাশি ফ্যাশনেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজস্ব একটি ধারা।

ব্যান্ডানা, সানগ্লাস, টি-শার্ট, জিনস কিংবা বাইক—সালমান শাহর ব্যবহার করা বিভিন্ন স্টাইল তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সময়ের তুলনায় তাঁর পোশাক ও উপস্থাপনায় ছিল আধুনিকতার ছাপ। তাঁর স্টাইল পরবর্তী সময়েও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, সাদামাটা স্বভাব, প্রাণবন্ত হাসি এবং অভিনয়ের সাবলীলতাও তাঁকে দর্শকের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি।

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারেই সালমান শাহ হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। কিন্তু ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনকে নাড়িয়ে দেয়। তাঁর চলে যাওয়া শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কের বিদায় ছিল না; তৈরি হয়েছিল এমন এক শূন্যতা, যা তিন দশক পরও পূরণ হয়নি।

সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ও বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তাঁর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে নানা সময়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

তবে এসবের বাইরে দর্শকের ভালোবাসায় সালমান শাহ আজও একইভাবে উজ্জ্বল। নতুন প্রজন্মও তাঁর সিনেমা, অভিনয়, ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বে আগ্রহ খুঁজে পায়। পর্দার সেই তরুণ নায়ক তিন দশক আগে চলে গেলেও অগণিত ভক্তের স্মৃতি ও ভালোবাসায় তিনি আজও বেঁচে আছেন—চিরসবুজ এক সালমান শাহ হয়ে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শেষ পর্যন্ত হার মানলেন স্টারমার, পদত্যাগের ঘোষণা

শেষ পর্যন্ত হার মানলেন স্টারমার, পদত্যাগের ঘোষণা