ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 10, 2026 ইং
গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
ad728


দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের শাসনে বাংলাদেশ ঋণ ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবার এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভঙ্গুর হয়ে পড়া বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের যাত্রায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির বিভিন্ন জননীতি ও কর্মসূচির দিকে তাকালেই দেখা যায়, দলটির পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) ও এসডিজির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে এবং এসডিজি বাস্তবায়নেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসডিজির ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ বা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ নীতির সঙ্গে সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মিল রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে’ দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনের মতো এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সুসংহত করতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড এবং জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।

‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের আওতায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর—এই তিনটি গ্রামকে স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এসব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে।

এসব কর্মসূচির প্রভাব পর্যবেক্ষণের পর সফল মডেলটি দেশের অন্যান্য গ্রামেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, ‘এসডিজি ভিলেজ’ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উন্নয়ন মডেলে পরিণত করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

এসডিজি বাস্তবায়ন কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি তিন দিনের জাতীয় সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

আগামী দিনের রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সবাইকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে পরিশোধের চাপ

বৈদেশিক ঋণ ৭৮.২ বিলিয়ন ডলার, বাড়ছে পরিশোধের চাপ