হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গুদাম সংকট ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো টার্মিনাল পুরোপুরি চালু না হওয়ায় শত শত টন আমদানিকৃত পণ্য খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এসব পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড দীর্ঘ সময়েও সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়নি। ফলে পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধার অভাবে অনেক মূল্যবান ও সংবেদনশীল পণ্য বাধ্য হয়ে উন্মুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে এসব পণ্যের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বিমানপথে সাধারণত উচ্চমূল্যের, জরুরি এবং শিল্পকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করা হয়। এসব পণ্য নষ্ট হলে শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই নয়, শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড সংস্কার, বিকল্প গুদাম ব্যবস্থা চালু এবং নিরাপদ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে পণ্য খালাস বিলম্বিত হচ্ছে, যা আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয় ও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের বাণিজ্য পরিবেশ ও ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক বলে তারা মনে করছেন।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের দাবি ডেস্ক