যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে কমিউনিজম ও বামপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কখনোই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধে কমিউনিজমকে পরাজিত করেছিল। তবে বর্তমানে দেশটির ভেতরেই নতুন করে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট চিন্তাধারার বিস্তার ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, কমিউনিজম যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, স্বাধীনতা এবং জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। ভাষণে ট্রাম্প বলেন, "আপনি হয় কমিউনিস্ট হতে পারেন, নয়তো দেশপ্রেমিক হতে পারেন। দুটি একসঙ্গে সম্ভব নয়।"
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের উত্থান এবং কিছু সমাজতান্ত্রিক ঘরানার নেতার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ বক্তব্য এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকান সমর্থকদের আরও ঐক্যবদ্ধ করতেই তিনি কমিউনিজমবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে সামনে আনছেন।
ট্রাম্পের ভাষণকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় ঐক্যের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজনমূলক বক্তব্য দেওয়া অনুচিত।
এছাড়া মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া এ ভাষণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিতে দাঁড়িয়ে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ট্রাম্প সমর্থকেরা তাঁর বক্তব্যকে জোরালো সমর্থন জানান এবং "ইউএসএ ইউএসএ" স্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করেন।

কালের দাবি ডেস্ক