ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হ্রদ, ফের বন্যার সতর্কতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 27, 2026 ইং
নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হ্রদ, ফের বন্যার সতর্কতা ছবির ক্যাপশন: নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে আকস্মিক বন্যার পর ঘরবাড়ি ও জমিজমা কাদায় ঢেকে গেছে। ২৭ আগস্ট ২০২৬
ad728

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নেপাল–তিব্বত সীমান্তের কাছে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, হ্রদটির পানি যেকোনো সময় প্রবাহিত হয়ে ভাটির দিকে নতুন করে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হ্রদের কূল ধসে পড়ার এবং সঞ্চিত পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নদী দুটি তিব্বত থেকে উৎপত্তি হয়ে নেপালে প্রবেশের আগেই একত্রিত হয়েছে। নেপালে এই নদী ভোটেকোশি নামে পরিচিত, যা ত্রিশূলী নদীর অন্যতম প্রধান উজানের উপনদী।

হ্রদটি ভেঙে গেলে ভাটির দিকে বিপুল পরিমাণ পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বোঝার জন্য বন্যার একটি কৃত্রিম মডেলও তৈরি করা হয়েছে। জরুরি উদ্ধার ও বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তীব্র স্রোতে তিমুরে ও স্যাপ্রুবেসি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, সেতু, ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি পরে ভাটির দিকে ত্রিশূলী নদীর দিকে ধাবিত হয়।

বন্যার পর নেপালের উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রধান প্রধান মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন তৈরি হওয়া হ্রদটি চলমান উদ্ধার তৎপরতার জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হ্রদটির পানির স্তর বাড়তে থাকলে এবং বাঁধসদৃশ প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে গেলে আকস্মিক পানির ঢল নেমে আসতে পারে। তাই নেপাল ও চীন উভয় পক্ষই পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংকট উত্তরণে মানুষ সরকারকে সময় দেবে,তবে অনির্দিষ্ট কালের জন্

সংকট উত্তরণে মানুষ সরকারকে সময় দেবে,তবে অনির্দিষ্ট কালের জন্