ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বর্তমানে দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা অবারিত: সাইফুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
বর্তমানে দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা অবারিত: সাইফুল হক ছবির ক্যাপশন: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সাক্ষাৎকারে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। ছবি: বাসস
ad728


বর্তমানে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে এবং দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা অবারিত বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত।

১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাইফুল হক।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে বাকস্বাধীনতা রক্ষা ছিল অন্যতম প্রধান দাবি। বর্তমানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলো তুলনামূলকভাবে চাপ ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে। একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিসরও বিস্তৃত হচ্ছে।

সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভোট ও নির্বাচন। তার অভিযোগ, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচনের পর প্রায় সাত মাসের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক গুম, দমন-পীড়ন বা রাজনৈতিক গ্রেফতারের ঘটনা এখন দৃশ্যমান নয়। এর ফলে আগের ভয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকার প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্রের বড় বিষয় হলো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রধান বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন। সংবাদপত্র ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনাও করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল মন খুলে কথা বলছে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও আগের মতো বাধা দেখা যাচ্ছে না। এ ধারাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অব্যাহত থাকলে বর্তমান সরকারের জন্য বড় অর্জন হবে।

তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন সাইফুল হক। তার মতে, অতীতে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিচার বিভাগ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হওয়ায় এটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বর্তমান সরকারের গত ছয় থেকে সাত মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাইফুল হক বিএনপি সরকারকে ‘এ প্লাস’ দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ভিন্নমত, বিরোধী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে এখন যে পরিসর তৈরি হয়েছে, তা ইতিবাচক।

তবে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈষম্যের বিষয়েও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দরিদ্র মানুষ, নারী, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের কণ্ঠ এখনও যথেষ্ট জোরালোভাবে সামনে আসছে না বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক নেতা।

তিনি বলেন, সরকার মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেছে। তাই সব প্রত্যাশা একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া কিছু উদ্যোগ ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়। গণতন্ত্রের নীতি প্রচার, মূল্যায়ন ও সুসংহত করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দিনটি ঘোষণা করে। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। (বাসস)



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আবার ইতিহাস গড়ার ঘোষণা শাকিবের, কী থাকছে ‘নিঃস্ব’-তে?

আবার ইতিহাস গড়ার ঘোষণা শাকিবের, কী থাকছে ‘নিঃস্ব’-তে?