বাংলাদেশ সমঝোতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায়। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, এই উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো একে অপরের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেন সবার জন্য সহজলভ্য হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অংশীদারত্ব, উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর কথা বলা হয়।
তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ, নারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা এবং শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ের কথাও বক্তব্যে উঠে আসে।
সবশেষে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সব নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

কালের দাবি ডেস্ক