ঢাকা, ১৬ আগস্ট: প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের ইতিবাচক মনোভাব ভারতের তুলনায় অনেক বেশি।
জরিপ অনুযায়ী, পাকিস্তানের ৬৬ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। শ্রীলঙ্কায় এ হার ৫৬ শতাংশ। বিপরীতে ভারতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণ একে অপরকে কীভাবে দেখেন, তা জানতে প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর এই জরিপ চালিয়েছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। গবেষণার ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
জরিপে ২০২৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের চিত্রও উঠে এসেছে।
জরিপের অন্যতম উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগের তুলনায় কমেছে।
পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কমেছে ১৫ শতাংশ। বর্তমানে ৪২ শতাংশ বাংলাদেশি ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ৫১ শতাংশ বাংলাদেশির ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। অর্থাৎ ভারতের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মনোভাবের ব্যবধান এখন উল্লেখযোগ্য।
২০২৪ সালের জরিপে ভারতের বিষয়ে মতামত দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন ২৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। এবারের জরিপে এই হার কমে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সম্পর্কে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের ইতিবাচক মনোভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।
পাকিস্তানে জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে ২২ শতাংশের বাংলাদেশ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।
শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে ৫৬ শতাংশ মানুষের। দেশটির ১৮ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেন না।
অন্যদিকে ভারতের ৪৮ শতাংশ মানুষের বাংলাদেশ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছে পিউ রিসার্চ।
জরিপে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেড়েছে ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে ভারতীয়দের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ১০ শতাংশ কমেছে।
অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক মনোভাবের ক্ষেত্রে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মনে করেন—জরিপে এমন প্রশ্নও করা হয়েছিল।
এ ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মানুষের অবস্থানে বড় পার্থক্য দেখা গেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া শ্রীলঙ্কার ৬৩ শতাংশ মানুষ ভারতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখেছেন। বিপরীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ভারতকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একই প্রতিবেশী দেশকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে পিউ রিসার্চের জরিপে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি স্থির নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধির বিষয়টি জরিপের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

কালের দাবি ডেস্ক