ঢাকা | বঙ্গাব্দ

‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ ছবির ক্যাপশন: ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’
ad728

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমবিসি)। আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এই করিডোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হলেও, এর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত করিডোরের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সঙ্গে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে চীনের জন্য ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর বিকল্প পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ উন্নত অবকাঠামো, নতুন বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগটি বাস্তবায়নের আগে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য। তাদের মতে, দেশীয় উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা না বাড়লে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফলের চেয়ে আমদানিনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু সড়ক ও রেল সংযোগ নয়, বন্দর আধুনিকীকরণ, কাস্টমস ব্যবস্থার উন্নয়ন, গুদাম সুবিধা, লজিস্টিকস এবং বহুমুখী পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্রের পরিবর্তে কেবল একটি ট্রানজিট রুটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নিরাপত্তার দিক থেকেও করিডোরটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কারণ প্রস্তাবিত রুটের একটি বড় অংশ মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ রাখাইন রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাবে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও যেকোনো আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তার, ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে করিডোরটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই কোনো পক্ষের প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের মাধ্যমে এগোনো, রপ্তানিমুখী শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় সুস্পষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তাদের অভিমত, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর ভবিষ্যতে দেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার গড়ে তোলা হবে, শ্রমবাজার সম্প্র

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার গড়ে তোলা হবে, শ্রমবাজার সম্প্র