ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ছবির ক্যাপশন: সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ছবি: গেটি ইমেজেস
ad728

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মোটরবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে গত ছয় বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

বাংলাদেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আরোহী হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব ঘটনায় মারা গেছেন ৩৮৬ জন। একইভাবে পিতা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৮ জন।


অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। সংস্থাটির হিসাবে, এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মোট ১ হাজার ৭২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২১১টি, তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।


মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ধরনের মোট ১৮৬টি দুর্ঘটনার মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯টি, পাঁচজন ২৮টি এবং ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ২০টি। এ ছাড়া ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা একটি।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ১০৮টি ঘটনা চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এসব ঘটনায় মোট ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৪টি, তিনজন ৩১টি, চারজন ২৪টি এবং পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯টি।


প্রতিবেদনে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৬২ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১১টি, তিনজন ১৫টি, চারজন ৯টি, পাঁচজন ৭টি এবং আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা তিনটি।

এ ছাড়া বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ধরনের ৩২টি দুর্ঘটনার মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৭টি, তিনজন ৯টি এবং চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা ছয়টি।

একই সময়ে পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার একটি ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ভ্রমণে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য হতাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

এ ছাড়া মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেসের ঘাটতি, চালকদের অদক্ষতা এবং বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছেই, আশ্রয়শিবিরে এখনও ২০

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছেই, আশ্রয়শিবিরে এখনও ২০