ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 11, 2026 ইং
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন ছবির ক্যাপশন: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
ad728


জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া এবং ভিসা নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠন করা। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা এবং মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ ও চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বিষয়টিও আইনের খসড়া প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে একজন চেয়ারপার্সন ও চারজন কমিশনার নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বাছাই কমিটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে কমিশনের কার্যপরিধি আরও সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা সহজ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা সম্ভাব্য ক্ষতি রোধেও কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারবে—এমন বিধান খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম প্রতিরোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় একই বৈঠকে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়ারও অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এর ১৮ক ধারার শর্ত পরিপালন করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে সংশোধিত আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা আকৃষ্ট করা, দক্ষ মানবসম্পদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা এবং আধুনিক অভিবাসন কাঠামো গড়ে তুলতে ভিসা নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

নতুন ভিসা নীতিমালায় মোট ৩৪টি ভিসা ক্যাটাগরি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা ২০০৬-এ ৩৩টি ক্যাটাগরি ছিল। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে আগের সব ভিসা-সংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো সমন্বিতভাবে নতুন ভিসা নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সাত জেলায় বন্যা: প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

সাত জেলায় বন্যা: প্রাণহানি বেড়ে ৫৪