দিপংকর চন্দ্র কর
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, কালের দাবি
একটি দেশের অর্থনীতির চাকা কখন থেমে যায়? কারখানায় কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও যখন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, কৃষক সেচ দিতে না পারেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়—তখন। আর এসবের পেছনে যদি একটি অভিন্ন কারণ খুঁজতে হয়, তার অন্যতম নাম জ্বালানি।
তাই জ্বালানি কেবল অর্থনীতির একটি খাত নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্নও একটি দেশের অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানতে পারে। এই বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা এখন আর বিলাসী চিন্তা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক শর্ত।
বাংলাদেশও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। গ্যাসের সংকটে অনেক শিল্পকারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
প্রশ্ন হলো, এই ঘাটতি পূরণের স্থায়ী সমাধান কী? শুধু আমদানি? আমার বিবেচনায়, যদি উত্তর শুধু আমদানি হয়, তাহলে আমরা সংকটের সমাধান করছি না; সংকটকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছি। কারণ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর দেশের অর্থনীতিকে আরও বেশি নির্ভরশীল করে তোলে। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য এই নির্ভরতা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
আমাদের তাই আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। এর অর্থ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া নয়; বরং আমদানিকে প্রয়োজনীয় বিকল্প হিসেবে রেখে দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া।
নিজেদের সম্পদ, নিজেদের সক্ষমতা
বাংলাদেশের স্থলভাগ এবং বঙ্গোপসাগরের বিশাল সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি। দেশের কোথায় কত গ্যাস আছে, কোথায় নতুন মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে কিংবা সমুদ্রসীমায় কী ধরনের হাইড্রোকার্বন সম্পদ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ জোরদার করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে বাপেক্সকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে আসা জরুরি। বাপেক্স, পেট্রোবাংলা এবং বিপিসির মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবে নয়, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখতে হবে।
বাপেক্সকে আন্তর্জাতিক মানের অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিজস্ব ড্রিলিং সক্ষমতা, ভূতাত্ত্বিক গবেষণা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা—সবই নিশ্চিত করা দরকার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল রেখে কোনো দেশ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে না।
জ্বালানি খাত কি শুধু ব্যবসা?
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বেসরকারি বিনিয়োগ বা অংশগ্রহণের বিরোধিতা করা হচ্ছে না। প্রশ্ন হলো—কৌশলগত জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?
জ্বালানি তেল অন্য সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের মতো নয়। এর সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু একটি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; পরিবহন থেমে যায়, কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থনীতিতে তার অভিঘাত পড়ে।
বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং এর বড় অংশ আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট দেখা দিলে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ে। সম্প্রতি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনে বেসরকারি অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করেছেন—কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দুর্বল করে বেসরকারি নির্ভরতা বাড়ানো হলে সংকটের সময়ে সরবরাহব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাষ্ট্রীয় মালিকানা মানেই অদক্ষতা নয়, আবার বেসরকারি মালিকানা মানেই দক্ষতা নয়। আসল বিষয় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহি। কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু জাতীয় সংকটের সময়ে জনগণের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চূড়ান্ত দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই থাকতে হবে।
মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। নিজেদের জাতীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্ষম করে দেশটি জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা তৈরি করেছে। থাইল্যান্ডের পিটিটি, ভিয়েতনামের পেট্রোভিয়েতনাম এবং ভারতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাও দেখায়—জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ ও আধুনিক করা সম্ভব।
বাংলাদেশ কেন পারবে না? আমাদের বাপেক্স, পেট্রোবাংলা ও বিপিসিকে সেই সক্ষমতায় নিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল হতে দেওয়া যাবে না। বরং এগুলোকে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বাধীন অডিট, কঠোর জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান দুর্বলতা একদিনে তৈরি হয়নি। অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে; একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাবও ছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
জ্বালানি খাতকে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কিংবা বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণির স্বার্থের ক্ষেত্র বানানো যাবে না। আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও অদক্ষতার আখড়ায় পরিণত করেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না। আমাদের প্রয়োজন স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা—যেখানে প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের, সম্পদ জনগণের এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া জবাবদিহিমূলক।
শুধু উৎপাদন নয়, মজুতও নিরাপত্তার অংশ
জ্বালানি নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৌশলগত মজুত। শুধু বিদেশ থেকে জ্বালানি কিনতে পারলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; আন্তর্জাতিক সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলে দেশ কতদিন নিজের মজুত দিয়ে চলতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই জ্বালানি তেল, গ্যাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত কৌশলগত মজুত নীতি থাকা প্রয়োজন। যুদ্ধের সময় যেমন জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যুদ্ধ না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন কিংবা কোনো সরবরাহকারী দেশের রাজনৈতিক সংকট একটি আমদানিনির্ভর দেশকে বিপদে ফেলতে পারে।
বিকল্প জ্বালানির পথও খুলতে হবে
স্বাবলম্বী জ্বালানি নীতি মানে শুধু মাটির নিচের গ্যাসের ওপর নির্ভর করা নয়। এটিকে হতে হবে বহুমুখী। প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ও কয়লার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে, অপচয় কমাতে হবে এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অর্থাৎ লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা নয়, বরং বহুমুখী, সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল জ্বালানি কাঠামো।
দরকার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি কৌশল
সবশেষে প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি কৌশল—যার মূল দর্শন সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে না।
আগামী ১০, ২০ কিংবা ৩০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা কত হবে, দেশীয় উৎস থেকে কতটা পাওয়া সম্ভব, কতটা আমদানি করতে হবে, কোথায় অনুসন্ধান হবে, কতটা কৌশলগত মজুত থাকবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ কত হবে—এসবের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দরকার।
এই নীতির ভিত্তি হতে পারে কয়েকটি বিষয়:
প্রথমত, বাপেক্স, পেট্রোবাংলা ও বিপিসিকে আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
দ্বিতীয়ত, স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া।
তৃতীয়ত, আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
চতুর্থত, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে সক্ষম করা।
পঞ্চমত, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ষষ্ঠত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতাকে জাতীয় পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ করা।
সপ্তমত, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অপচয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করা।
বাংলাদেশের সামনে এখন একটি বড় সুযোগ আছে। আমরা চাইলে অতীতের আমদানিনির্ভর, অস্বচ্ছ ও ভঙ্গুর ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি; আবার চাইলে নিজেদের সম্পদ, নিজেদের প্রতিষ্ঠান এবং নিজেদের সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে একটি নতুন জ্বালানি দর্শন তৈরি করতে পারি। আমার বিশ্বাস, দ্বিতীয় পথটিই বাংলাদেশের জন্য টেকসই পথ।
জাতীয় সম্পদ জনগণের সম্পদ। কৌশলগত জ্বালানি খাত কোনো গোষ্ঠীর মুনাফার ক্ষেত্র হতে পারে না; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম সক্ষমতার অংশ। তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি ও অদক্ষতার ঊর্ধ্বে তুলতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ নিতে হবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতেই রাখতে হবে। আমদানি করতে হবে, কিন্তু আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া যাবে না।
কারণ জ্বালানি সংকট শুধু অন্ধকার নামায় না; এটি কারখানার চাকা থামায়, কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত করে, পরিবহন ব্যয় বাড়ায়, বাজারে চাপ তৈরি করে এবং অর্থনীতির ভিত দুর্বল করে। আর যে রাষ্ট্র নিজের জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সংকটের সময়ে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে পড়ে।
তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল ‘জ্বালানি পাওয়া’ নয়—নিজের জ্বালানি সম্পদ খুঁজে বের করা, নিজের প্রতিষ্ঠানকে সক্ষম করা, প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তোলা এবং সংকটের মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা।
এই সক্ষমতার নামই জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা। আর জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি—স্বাবলম্বী জ্বালানি নীতি।

কালের দাবি ডেস্ক