রংপুরের তারাগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ মুজাহিদ ইসলাম (১৮) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করলে তিনি বিচারকের নিকট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এর আগে গত সোমবার রাতে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল।
মায়ের ওপর অভিমান, অতঃপর পৈশাচিকতার শিকার
মঙ্গলবার বিকেলে তারাগঞ্জ থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল ওই শিশুটি। জুমার নামাজের পর সে যখন রাস্তার পাশে একটি পাটখেতের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন আসামি মুজাহিদ ইসলাম কৌশলে তাকে পাটখেতের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে শিশুটিকে মোবাইলে একটি ভিডিও দেখানো হয় এবং পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে মুজাহিদ তার বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে তাকে হত্যা করেন এবং লাশ ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশের বিশেষ অভিযান
গত শনিবার দুপুরে তারাগঞ্জের ওই গ্রামের একটি সেচ ক্যানেলের ধারের পাটখেত থেকে শিশুটির নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুশান্ত কুমার রায়ের নেতৃত্বে জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও মুজাহিদ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং অবশেষে আদালতেও তা নথিভুক্ত হলো।
কালের দাবি ডেস্ক